
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে খাল পুনর্খনন প্রকল্পের আড়ালে চলছে সরকারি মাটি চুরির মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে খালের মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে যা এই অঞ্চলের কৃষি জমি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাসেন্ট্রির বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই লুটপাটের নেপথ্য কাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হলেও তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বরং খননকৃত মাটি পাড় বাঁধার কাজে ব্যবহার না করে রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটের ভাটায় এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং তাদের অনুসারীদের দিকে যারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে মির্জাপুরের কয়েকটি এলাকায় খালের গভীরতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করা হচ্ছে যাতে বেশি পরিমাণ মাটি উত্তোলন করা যায়। এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে প্রভাবশালী এই চক্রটি ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে খালের মাটি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে ফলে বর্ষা মৌসুমে খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যা আশেপাশের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি করবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান খাল খনন প্রকল্পের মাটি খালের পাড়েই রাখার নিয়ম। মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনদুপুরে এই মাটি চুরির ঘটনা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে সরকারি প্রকল্পের আড়ালে এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষি প্রধান এই এলাকায় খালের মাটি বিক্রি বন্ধ না হলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে স্থানীয় কৃষকরা। বাংলাসেন্ট্রির বিশেষ নজরদারি থাকবে এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।