ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
অবশেষে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। চার ধরনের তেলের নতুন দর লিটারপ্রতি আগের চেয়ে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে, যা শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
ডিজেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫ এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা।
এতে করে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা (আগের দর ১০০ টাকা), অকটেন বেড়েছে ২০ টাকা (আগের দর ১২০), পেট্রোল বেড়েছে ১৯ টাকা (আগের দর ১১৬) এবং কেরোসিন বেড়েছে ১৮ টাকা (আগের দর ১১২)।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
এর আগে বেশ কয়েক মাস ধরে এ চার ধরনের তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। সবশেষ এপ্রিলেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার চড়তে থাকায় এবার এক লাফে দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার নতুন দর নির্ধারণের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
"আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার যতদিন সম্ভব ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে।" - বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
আইএমএফের চাপ ও ভর্তুকির সংকট
জ্বালানি তেলের নতুন দর নির্ধারণের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ঋণের পরের কিস্তির অর্থ পেতে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর দাবি জানাচ্ছে সংস্থাটি।
সরকারের তরফে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর কথা বলা হলেও ৭ এপ্রিল ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রয়োজন হলে মে মাসে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
সবশেষ ৩১ মার্চ রাতে এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণার সময় তা অপরিবর্তিত রেখেছিল সরকার। তখন ভোক্তা পর্যায়ে লিটারপ্রতি ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
দেশে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। ওই কাঠামোর আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে মিল রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে জেট ফুয়েলের দর বাড়ানো হয় কয়েক দফায়। দাম বেড়েছে ফার্নেস অয়েলেরও। তবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম এতদিন স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হলেও এবার সেই চাপ সামলাতে পারেনি সরকার।
সরকারের অবস্থান
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে জনস্বার্থে ভর্তুকি বাড়ানোর কথা বলেছিলেন।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বাড়ানোর ঘোষণা আসে।
নতুন দাম শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সার্বিক প্রভাব
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন ভাড়া, পণ্যমূল্য ও কৃষি উৎপাদন খরচে। এর মাধ্যমে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তারা দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
