গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাদ্রাসাছাত্রী ফাহমিদা আনজুম ফারিহাকে (১৬) অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে তাকে নয়নপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।
সর্বশেষ অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে এমসি বাজার ও নয়নপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত আবিদ হোসেনের মা মোসাম্মৎ আবেদা খাতুনসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত আবিদ এখনও পলাতক রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাদিউল ইসলামের ভাড়া বাসায় হামলা চালায় একদল সশস্ত্র যুবক। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, আবিদ ও তার সহযোগীরা ঘরের দরজা ভেঙে এবং বাবার গলায় পিস্তল ঠেকিয়ে ফারিহাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।
পুলিশের নতুন দাবি: "প্রেমঘটিত বিষয়"
ঘটনাটি শুরুতে সশস্ত্র অপহরণ হিসেবে আলোচিত হলেও, উদ্ধারের পর পুলিশের তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে আসছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. লালচান মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি প্রেমঘটিত বিষয় হতে পারে। কিছু স্থানীয় সূত্রের দাবি, আইনি জটিলতা এড়াতে মেয়েটি নিজেই এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো এটিকে পরিকল্পিত অপহরণ এবং বর্বরোচিত হামলা হিসেবেই দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। আজ সকালেও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। উদ্ধার হওয়ার খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও মূল হোতা আবিদ গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয় আলেম সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সারসংক্ষেপ: অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ মূল অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।
