ঘটনার বিবরণ
শিপিং ডেটা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাকি তেল নিয়ে জাহাজ দুটি প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (IRGC) গানবোট থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। জানা গেছে, 'সানমার হেরাল্ড' সুপারট্যাঙ্কারটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। হামলার মুখে জাহাজ দুটি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, জাহাজে থাকা ক্রু এবং জাহাজগুলো বর্তমানে নিরাপদ রয়েছে।
কেন এই হামলা?
পারস্য উপসাগরের এই জলপথটি গত ৫০ দিন ধরে ইরানি অবরোধের কারণে কার্যত বন্ধ ছিল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে ভারতীয় ও চীনা পতাকাবাহীসহ বেশ কিছু জাহাজ যাতায়াত শুরু করে। কিন্তু শনিবার ইরান আবারও কড়াকড়ি আরোপ করে এবং ঘোষণা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে না নেয়, তবে এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতহালিকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA)। ভারতের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভারত সবসময় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পক্ষে অবস্থান করে।
প্রেক্ষাপট
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নৌ-নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের নৌবাহিনী কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
